রাত তখন প্রায় সাড়ে ১২টা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরের দিকে একটু সামনে এগুতেই চোখে পড়লো বদলে যাওয়া এক হিমশীতল আবহের। সমগ্র দিনের শত ব্যস্ততা শেষে সূর্য ডিঙিয়ে নেমেছে সন্ধ্যার আবরণ। সেই সাথে শান্ত হয়ে আসা লালমাটির ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে হালকা-ঘন কুয়াশার আস্তরণ।
সময় গড়াতেই অন্ধকার আর কুয়াশার চাদরে যেন মুড়িয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাসে আনুষঙ্গিক দৃশ্যগুলো।
রাস্তার দুই পাশের গাছপালা, ক্যাম্পাসের ভবন আর দূরের টিলাগুলোকে আবছা করে দিয়েছে শান্ত শীতল শীতের স্নিগ্ধতা। যেন জানান দিচ্ছে, আসছে শীত।
ল্যাম্পপোস্টের আলোও যেন পুরো পথকে পারছে না আলোকিত করতে। মাঝপথেই তা মিলিয়ে যাচ্ছে কুয়াশার আবরণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান থেকে শুরু করে প্রকৌশল অনুষদ ভবন রোড কিংবা কৃষ্ণচূড়া রোড থেকে শহিদ মিনার, সেই সাথে কেন্দ্রীয় মাঠের বিস্তৃত প্রান্তর; সবখানেই দেখা মিলছে ঋতু বদলের সেই নীরব ইঙ্গিত।
সপ্তাহখানেক আগেও রাতের বাতাসে ছিল ভ্যাপসা গরমের ছোঁয়া। এখন সেই জায়গা দখল করছে হালকা শীতলতা। ক্যাম্পাসের উঁচু-নিচু টিলা, সবুজ গাছপালা আর খোলা মাঠের ওপর ধীরে ধীরে নেমে এসেছে কুয়াশার ধূসর চাদর।
ভোরের আগমুহূর্তে দৃশ্যটি যেন আরও স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় মাঠের ঘাসে জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিশির, পাতায় পাতায় দেখা মিলে আর্দ্রতার ছাপ। দূরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন কিংবা রাস্তার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিও তখন হয়ে থাকে অস্পষ্ট-ঝাপসা। সূর্যের প্রথম কিরণ ছড়িয়ে পড়ার আগমুহুর্ত পর্যন্ত কুয়াশার আস্তরণে ঢাকা থাকে ক্যাম্পাসের সিংহভাগ।
কুবির লালমাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ বরাবরই ঋতুর পরিবর্তনকে করে তোলে আলাদারূপে দৃশ্যমান। শরতের শেষভাগ আর হেমন্তের শুরুর এই সময়ে রাতের বাতাস, ভোরের শিশির আর কুয়াশার উপস্থিতি যেন বহন করছে সেই পরিবর্তনের বার্তা।
প্রকৃতিতে এখনও ঘন শীতের আগমনি বার্তা আসেনি। তবু রাতের শীতল বাতাস, ঝাপসা আলো আর শিশিরভেজা ভোর মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে এক স্বতন্ত্র আবহ। প্রকৃতি যেন নীরবে জানান দিচ্ছে আরেকটি ঋতুর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে লালমাটির এই ক্যাম্পাস।


