...|...|...

চট্টগ্রাম

এক বাসা থেকে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:২০
Shares
এক বাসা থেকে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেফতার

ভাড়া বাসা থেকে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেফতার। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে নগরের খুলশীর জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ভবনটিতে অভিযান শুরু করা হয়। সেখানে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন নাগরিককে পাওয়া যায়।

সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে ওই ভবনটি ভাড়া নেয়। এরপর থেকে সেখানে অবস্থান করে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

তিনি জানান, অভিযানে ভবনটি থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব ডিভাইস ব্যবহার করেই চক্রটি তাদের অনলাইনভিত্তিক অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধ আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি, অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনি কর্তৃত্বের বাইরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, চক্রটির সাথে দেশি-বিদেশি আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের কয়েকজন এখনো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে অভিযানে জব্দ করা ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। এসব তথ্যের মাধ্যমে চক্রটির কার্যক্রম, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং প্রতারণার বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

তদন্তে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে- পাঁচ দেশের এসব নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, কোন ভিসায় এসেছেন এবং কারা তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেছে।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, চক্রটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।