ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আবারও প্রতিবাদ জানিয়েছে আয়ারল্যান্ড। কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামার পাশাপাশি ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলার সময় মাথা নত করে দাঁড়ান আইরিশ ফুটবলাররা। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের প্রচলিত হ্যান্ডশেকও এড়িয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
রবিবার সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় দর্শকশূন্য মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। নিয়মিত অধিনায়ক দারা ও'শিয়া সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে দলে না থাকায় আয়ারল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন গোলরক্ষক কাওহিম কেলেহার।
ম্যাচ শুরুর আগে রেফারি ও তার সহকারীদের সাথে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন কেলেহার। তবে ইসরায়েল অধিনায়ক দোর পেরেতজের সাথে তিনি হ্যান্ডশেক করেননি। এর আগে দুই দলের প্রথম ম্যাচেও একইভাবে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল আয়ারল্যান্ড।
খেলার ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যায় আইরিশরা। দোর পেরেতজের ফাউলে জিমি ডান পড়ে গেলে পেনাল্টি পায় আয়ারল্যান্ড। স্পটকিক থেকে গোল করেন ট্রয় প্যারট। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর দুই মিনিটের মাথায় কাছ থেকে গোল করে ইসরায়েলকে সমতায় ফেরান পেরেতজ।
ইসরায়েলের বিপক্ষে এই দুই ম্যাচ ঘিরে আয়ারল্যান্ডে আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ বয়কটের দাবিও ওঠে দেশটিতে। নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত কারণ দেখিয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) দ্বিতীয় ম্যাচটি ডাবলিনের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত সার্বিয়ায় দর্শকশূন্য মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে প্রথম ম্যাচেও কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন আইরিশ ফুটবলাররা। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলার সময় মাথা নত করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। সেই ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড।
ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু দল থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি নিরপরাধ মানুষের হত্যার বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ দুটি নিয়ে এফএআইকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।


