...|...|...

শিক্ষা

অবসরে যাওয়া ৭০ হাজার শিক্ষক পাবেন পাওনা

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:০৬ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:৪৫
Shares
অবসরে যাওয়া ৭০ হাজার শিক্ষক পাবেন পাওনা

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা পেতে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ কর্মসূচির আওতায় আসছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে চরম কষ্টে ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘব করতেই সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, এবার প্রথমবারের মতো ‘আইবাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না এবং অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এ পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে কেটে রাখা অর্থের ভিত্তিতে অবসর সুবিধা দিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

বোর্ড সূত্র জানায়, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাইয়ের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বর্তমানে অধিকাংশ আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে। এতে আবেদন নিষ্পত্তির কাজ ধীর হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৬ শতাংশ চাঁদা জমার ভিত্তিতে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা অবসর সুবিধা পেতে পারেন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলছে।

কল্যাণ ট্রাস্টে শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা হয়। এ অর্থের ভিত্তিতে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন। এসব অর্থ পরিশোধে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক ইউসুফ আলী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ পরিশোধে সরকার মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটির দিনেও কাজ করছেন।

তিনি জানান, কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা আয় হয়। বিপরীতে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন আবেদন জমা পড়ে। ফলে মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় নিয়মিত অর্থের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে জমে থাকা আবেদনগুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি করতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট মিলিয়ে বর্তমানে ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন মেটাতে প্রয়োজন ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ফলে সরকারের বর্তমান ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সব আবেদন নিষ্পত্তি করে পুরো সংকট নিরসনে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

সরকারের এ বিশেষ উদ্যোগে অন্তত ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে বর্তমান বরাদ্দের বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর পাওনা কবে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা চলমান অর্থ বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় বরাদ্দের মাধ্যমে পুরো পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।