...|...|...

বিশ্ব

সার্বিয়ায় স্বৈরশাসকের পতনের পর ছাত্রদের তোপের মুখে গণমাধ্যম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৫৭
Shares
সার্বিয়ায় স্বৈরশাসকের পতনের পর ছাত্রদের তোপের মুখে গণমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

সার্বিয়ায় একপেশে সংবাদ পরিবেশন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দর ভুচিচের সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেল।

গত রবিবারের নির্বাচনে ভুচিচের দল অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হওয়ার পর এ ঘোষণা দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনা’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে বিজয়ী দল ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দূর করার পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত ভুচিচ টানা ১২ বছর সার্বিয়া শাসন করেন। কিন্তু রবিবারের নির্বাচনে তার দলকে পরাজিত করে তরুণদের জনপ্রিয় আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’।

একে ভুচিচের দলের জন্য ঐতিহাসিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেডিও টেলিভিশন ভয়ভোদিনার সংবাদ উপস্থাপক গোরান এরোর এক সম্প্রচারে বলেন, 'বহু বছর ধরে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা নীরব থেকেছি, চোখ বন্ধ রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারিনি। এর জন্য আমরা দর্শকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।'

ভুচিচের হারের পর চ্যানেলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক নেনাদ চাচিচ পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে চ্যানেলটি বিজয়ী ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর বিজয় উৎসবের দৃশ্য দিয়ে সংবাদ সম্প্রচার শুরু করেছে, যা নির্বাচনের রাতে তারা প্রচার করতে পারেনি।

একই সময়ে সোমবার সন্ধ্যায় ইনফর্মার টিভি নামের আরেকটি গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে ঢুকে পড়েন অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী। অন্যদিকে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রধান মাধ্যম ‘রেডিও টেলিভিশন অব সার্বিয়া’র (আরটিএস) মহাপরিচালক ও সব সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ আন্দোলন ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫০ আসনের সংসদে প্রায় ১৪০টি আসন জিততে যাচ্ছে। এর ফলে তারা এককভাবেই সরকার গঠন করতে পারবে।

উল্লেখ্য, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে সার্বিয়ার অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০৪তম, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।