...|...|...

সারাদেশ

সকাল ৮টায় হঠাৎ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪৩
Shares
সকাল ৮টায় হঠাৎ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

সকাল ৮টায় হঠাৎ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: টাইমস টুডে

মুখে মাস্ক, কোনো পূর্বঘোষণা নেই। সকাল ৮টায় হঠাৎ হাসপাতালে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একে একে ঘুরে দেখলেন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, রান্নাঘর ও শৌচাগার। কথা বললেন রোগীদের সাথে। আর তাতেই সামনে এলো চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা ও চিকিৎসাসেবার নানা সংকট। এসব অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব চিত্র দেখতে পান তিনি।

পরিদর্শনকালে পাঁচজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উপস্থিতি খাতা যাচাই করে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরীকেও কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়েও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি রান্নাঘর, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিচতলার রান্নাঘরের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের। শৌচাগার ও গোসলখানার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও সতর্ক করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের।

হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। দীর্ঘ আট মাসেও এর উন্নতি না হওয়াকে দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় সরকারি বরাদ্দের টিকা ও ভ্যাকসিন যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে নিচে ফেলে রাখা অবস্থায় দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সতর্ক করে টিকা ও ভ্যাকসিনের সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে ভর্তি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় শয্যা ও রেক্সিনের চাদরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রের অভাবে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে-এমন সমস্যার সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি।

৫০ শয্যার ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের ভিড় থাকলেও শয্যাসংকটের কারণে অনেককে বারান্দা কিংবা সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের মধ্যেও চিকিৎসক, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নার্সদের মাধ্যমে চলছে সেবাকার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের খাবার সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা রয়েছে। একসময় সেবার মানের জন্য পরিচিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আকস্মিক পরিদর্শনে পাঁচজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আরও কিছু অনিয়ম চোখে পড়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে না পাওয়া এবং তার নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন সদর এলাকায় বহুতল পরিবার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং পুরোনো তিনটি ওয়ার্ডেও পরিবার হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাদ মাহমুদ জয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।