...|...|...

অর্থনীতি

শীতের আগাম সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসের বাজারে চড়া দাম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৫
Shares
শীতের আগাম সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসের বাজারে চড়া দাম

ছবি: সংগৃহীত

শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজির দাম কমেছে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের মতো কয়েকটি সবজি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে স্বস্তির দেখা নেই। গত সপ্তাহের মতোই প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। ফলে সবজি কিনতে কিছুটা সাশ্রয় হলেও মাছ ও মাংসের পেছনে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ-মাংসের বাড়তি দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালে এসেছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু পাওয়া যাচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে।

বেগুনের দাম জাত ও আকার অনুযায়ী ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুন কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। টমেটো ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। গাজরের দাম আরও বেশি, প্রতি কেজি ১৪০ টাকা।

শসার ক্ষেত্রে দেশি ও হাইব্রিডের দামে পার্থক্য রয়েছে। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই বাজারের বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় বাজারে কিছুটা দাম কমেছে। তবে এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি হিসেবে এসব সবজির দাম ৬০ টাকা।

মাছের বাজারে অপরিবর্তিত দাম

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও মাছের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। অধিকাংশ মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশের দাম ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ইলিশের বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বড় আকারের ইলিশের দাম কোনো কোনো বাজারে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মাংসের দামেও নেই স্বস্তি

মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও দামের তেমন ওঠানামা দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

টিসিবির প্রতিবেদনে নিত্যপণ্যের মিশ্র চিত্র

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৫ নভেম্বর প্রকাশিত খুচরা বাজারদরের তথ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। বিপরীতে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে।

তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের খরচে এখনো উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় দেখা যাচ্ছে না।