ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সাথে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বাক্বিতণ্ডার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তার ওই পোস্ট শেয়ার করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে সরাইল থানায় রুমিন ফারহানার প্রবেশ, ক্যামেরা বন্ধ করতে বলা এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলার বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করেন।
পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, দিনরাত এক করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে মুখে ফেনা তুলে ফেলা এই সংসদ সদস্য যখন পুলিশ স্টেশনে ওই কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী দ্বারা বেষ্টিত হয়ে প্রবেশ করে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পতিত শাসকগোষ্ঠীর দোসর বলে, তখন এইটাকে তামাশা বলা হয়।
তিনি আরও লেখেন, আপনি এত সাহসের ভান্ডার, তাহলে ক্যামেরা কেন বন্ধ করতে বলছেন? আর যখন দেখলেন ক্যামেরা বন্ধ করা যাচ্ছে না, তখন শুরু করলেন ওসির নামে বিষোদ্গার। ইটভাটা, মাটি কাটা আর বালু উত্তোলন থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তো যাওয়া উচিত পুলিশ সুপার বা দুদক কার্যালয়ে থানার কক্ষে ঢুকে চেঁচামেচি করলে তো এটার সুরাহা হবে না।
রুমিন ফারহানার কর্মকাণ্ডকে ‘স্টান্টবাজি’ আখ্যা দিয়ে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, রুমিন ফারহানা, আপনার এসব স্টান্টবাজি মানুষ বোঝে। শোকরিয়া করুন যে আপনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য অন্য কোনো দেশ হলে থানায় ঢুকে কর্তব্যরত পুলিশের সাথে এহেন আচরণের জন্য চৌদ্দ শিকের ভেতরে থাকতেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রুমিন ফারহানার গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভৈরব টোল প্লাজায় পুলিশ রুমিন ফারহানাকে আটকে রাখার পর আশুগঞ্জের একটি হোটেলে স্যান্ডউইচ ও জুস দিয়ে আপ্যায়ন করেছিল বলে দাবি করেন।
জুলকারনাইন সায়েরের ওই পোস্ট শেয়ার করে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, থানায় প্রবেশ করে মব করায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিএনপির এমপি, মন্ত্রীদের পান থেকে চুন খসলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অপরপক্ষে রুমিন ফারহানাসহ আরও বেশ কিছু সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের অবাধ বাক্স্বাধীনতার পুরোপুরি অপব্যবহার করছেন। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শতাধিক কর্মী-সমর্থককে সাথে নিয়ে সরাইল থানায় যান। সেখানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে তার বাক্বিতণ্ডা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।


