স্বল্প ব্যয়ে মহাকাশ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পরিচিত ভারত। তবে নতুন এক গবেষণায় দেশটির রকেট উৎক্ষেপণ ব্যয় নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) প্রতি কেজি পেলোড পাঠাতে ভারতের গড় খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতালির পলিটেকনিকো দি তোরিনোর গবেষকদের করা সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
২০২৬ সালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে ১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৪০টির বেশি রকেট উৎক্ষেপণের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, ২০২৫ সালে এলইওতে প্রতি কেজি পেলোড পাঠাতে ভারতের গড় ব্যয় ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৩০২ ডলার।
তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিমাণ পেলোড কক্ষপথে পাঠাতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ২২৫ ডলার। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেলোড উৎক্ষেপণে ভারতের আনুমানিক খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রতি কেজি পেলোড উৎক্ষেপণের গড় ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৮৬৮ ডলার। দেশ ও অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে জাপানে ৫ হাজার ২৮৭, চীনে ৫ হাজার ৮০৯, রাশিয়ায় ৬ হাজার ৬৮২ এবং ইউরোপে ৯ হাজার ৮৯৭ ডলার ব্যয় হয়েছে। তালিকায় সর্বোচ্চ ব্যয় ছিল ভারতের।
গবেষকদের মতে, ভারতের রকেটগুলোর তুলনামূলক কম পেলোড বহনক্ষমতা বেশি ব্যয়ের অন্যতম কারণ। উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট খরচ কম পরিমাণ পেলোডের মধ্যে ভাগ হওয়ায় প্রতি কেজিতে ব্যয় বেড়ে যায়।
তবে গবেষণার এই হিসাব নিয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন গবেষণাটির তথ্যকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সাবেক ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথের মতে, শুধু প্রতি কেজি পেলোড উৎক্ষেপণের খরচ দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক উৎক্ষেপণ সক্ষমতার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠান বেশি সংখ্যক উৎক্ষেপণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় কমাতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
গবেষণাতেও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম ব্যয়ের পেছনে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট, বেশি উৎক্ষেপণ হার ও বড় পরিসরের কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রথম ধাপ উৎক্ষেপণ ব্যয় কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে কক্ষপথে পাঠানো মোট পেলোডের প্রায় ৭৫ শতাংশই উৎক্ষেপণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পেছনে স্পেসএক্সের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে ভারত পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণযান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও এখনও নিয়মিত কক্ষপথে ব্যবহারের উপযোগী পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করতে পারেনি। দেশটির পরবর্তী প্রজন্মের উৎক্ষেপণযান এনজিএলভি পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষণাটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভারত আগামী দশকে দেশটির মহাকাশ অর্থনীতিকে বর্তমান প্রায় ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে কম খরচ, বেশি উৎক্ষেপণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


