...|...|...

ধর্ম

যে গুনাহের ব্যাপারে কোরআনে এসেছে যুদ্ধের ঘোষণা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৫
Shares
যে গুনাহের ব্যাপারে কোরআনে এসেছে যুদ্ধের ঘোষণা

ছবি: এআই জেনারেটেড

আমরা অনেকেই নিয়মিত সালাত আদায় করি, হারাম বর্জন করে হালাল রিজিক অন্বেষণের চেষ্টা করি এবং নিজেদের সুদের মতো মারাত্মক গুনাহ থেকে মুক্ত মনে করি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়—মাসের শেষে হয়তো কোনো সুদি ঋণের কিস্তি কেটে যাচ্ছে, অথবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়ার ওপর বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। কিংবা বহু বছর আগে করা কোনো চুক্তি এখন জীবনের এমন এক স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছে যে, সেটিকে আলাদা করে ‘রিবা’ বা সুদ বলেও মনে হয় না। মনের ভেতর হয়তো অজুহাত তৈরি হয়—’কী করব? বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তো বের হওয়ার আর কোনো উপায় নেই।’

ভয়ের মূল জায়গাটি এখানেই। যে বিষয়টিকে মানুষ ধীরে ধীরে মাসিক সাধারণ খরচের মতো স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছে, মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে তার ব্যাপারে এমন কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যেকোনো ঈমানদার মানুষকে থমকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও। আর যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও।’
সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৮–২৭৯

এই আয়াতটা অন্য কারও জন্য পড়ে চলে যাবেন না। একটু নিজের জীবনটা দেখুন। আপনার কোনো ঋণে সুদ চলছে? কোনো ক্রেডিটের বকেয়া আছে যেখানে প্রতি মাসে সুদ যোগ হচ্ছে? ব্যবসার কোনো চুক্তি? এমন কোনো দায়, যেটার ব্যাপারে আপনি নিজেও জানেন ‘এটা ঠিক না’, কিন্তু এতদিন ধরে চলছে যে এখন আর আগের মতো খারাপও লাগে না?

মানুষ হারামের সঙ্গে একদিনে অভ্যস্ত হয় না। প্রথমে অস্বস্তি হয়। তারপর প্রয়োজনের যুক্তি আসে। তারপর ‘সবাই তো করছে’। এরপর একসময় বিষয়টা আর মনেই লাগে না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) রিবা গ্রহণকারী, রিবা প্রদানকারী, চুক্তি লেখক এবং এর দুই সাক্ষীর ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই এতে সমানভাবে জড়িত।
সহিহ মুসলিম, ১৫৯৮

তাই ‘আমি তো সুদ খাচ্ছি না, শুধু দিচ্ছি’ বলে বিষয়টা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। আবার এর অর্থ এটাও নয় যে কারও পরিস্থিতি না জেনে তাকে বিচার করা যাবে। কারও বহু বছরের ঋণ আছে, কারও ব্যবসা আটকে আছে, কারও এমন চুক্তি আছে যেখান থেকে বের হতে সময় লাগবে।

কিন্তু একটা পার্থক্য মনে রাখা দরকার। হারাম থেকে বের হতে কষ্ট হওয়া আর হারামটাকে স্বাভাবিক মনে করে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া এক জিনিস নয়।

হয়তো আপনি আজই সব ঋণ শেষ করতে পারবেন না। কিন্তু আজই বসে দেখতে পারেন, কোথায় কোথায় সুদ চলছে। নতুন করে আরেকটা সুদি দায় নেওয়া বন্ধ করতে পারেন। যেটা আগে শেষ করা সম্ভব, সেটার পরিকল্পনা করতে পারেন। নিজের নির্দিষ্ট চুক্তি নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিশ্বস্ত ও যোগ্য আলেমকে দেখাতে পারেন।

আর আল্লাহর কাছে সত্যি করে বলতে পারেন, ‘ইয়া আল্লাহ, আমি এটা থেকে বের হতে চাই। আমি দুর্বল। আপনি আমার জন্য হালাল পথ খুলে দিন।’

কারণ আল্লাহ শুধু ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেননি। তিনি বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি।’
সূরা আত-তালাক, ৬৫:২–৩

তাই আজ প্রশ্নটা ‘সুদ হারাম কি না?’ নয়। এটা আমরা জানি। প্রশ্নটা আরও ব্যক্তিগত—যে বিষয়কে আল্লাহ এত কঠিন ভাষায় নিষেধ করেছেন, আমি কি সেটাকেই আমার জীবনে এত স্বাভাবিক করে ফেলেছি যে এখন আর ভয়ই লাগে না?

যদি এই প্রশ্নটা পড়ে ভেতরে একটু অস্বস্তি হয়, সেই অস্বস্তিটা চাপা দেবেন না। হয়তো আপনার ফিরে আসার শুরুটা সেখান থেকেই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রিবা বা সুদের যাবতীয় রূপ থেকে হেফাজত করুন, যারা এতে আটকে আছেন তাদের জন্য হালাল উপায়ে বের হওয়ার পথ সহজ করে দিন এবং সকলের রিজিকে বরকত ও পবিত্রতা দান করুন। আমিন।