...|...|...

অন্যান্য

যেভাবে চিপা-চাপায় পড়ে থাকা মিষ্টির খোঁজ পায় পিঁপড়া

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৭
Shares
যেভাবে চিপা-চাপায় পড়ে থাকা মিষ্টির খোঁজ পায় পিঁপড়া

ছবি: সংগৃহীত

চা বানানোর সময়ে কয়েক দানা চিনি প্রায়শই হাত থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যায়। পায়েস বানাতে গিয়েও দু-এক সময় দুধ উথলে চুলার ওপর বা আশেপাশে না পড়ে না। আর মিষ্টি খেতে গিয়ে তার গুঁড়ো তো হামেশাই গিয়ে পড়ে টেবিলের নিচে। এসব নিয়ে আমরা কেউ তেমন মাথা ঘামাই না, কিন্তু তার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই দরজার প্রান্ত থেকে কিংবা ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে কোণা থেকে বেরিয়ে আসে পিঁপড়ের দল। তারা একেবারে ঠিক সেখানে উপস্থিত হয় যেখানে মিষ্টিজাতীয় কিছু পড়ে আছে এবং সারি সারি পিঁপড়েকে খাবারের কণার দিকে এগিয়ে যেতেও দেখা যায়। কিন্তু কীভাবে তারা মাপঝোপ করে একেবারে ‘অকুস্থলে’ পৌঁছায়?

আসলে পিঁপড়েরা তাদের অ্যান্টেনা বা শুঁড় ব্যবহার করে আমাদের বাড়ির মেঝে অনুভব করতে পারে। এর ফলে তারা এমন সব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে যা মানুষ পারে না, আর ঠিক এভাবেই পড়ে থাকা খাবারের কণাও তারা নির্ভুলভাবে খুঁজে বের করে।

পিঁপড়েরাও কি মিষ্টির ঘ্রাণ দূর থেকে পায়?

আপনার বাড়ি থেকে বহু দূরে বাস করলেও আপনার রান্নাঘরের ঘ্রাণ পিঁপড়েদের কাছে ঠিকঠাক পৌঁছায়। খাবার খোঁজার জন্য পিঁপড়েদের এক বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা এক ধরনের নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। এটি মূলত রাসায়নিক সংকেত, স্মৃতি এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তৈরি হয়।

গবেষকদের মতে, অন্যান্য অনেক প্রজাতির পোকামাকড় ও প্রাণীর তুলনায় পিঁপড়েদের শরীরে চার-পাঁচ গুণ বেশি ঘ্রাণশক্তি রিসেপ্টর রয়েছে। মাইক্রোবায়োলজির জগতে পিঁপড়েকে এমন এক ধরনের জীব হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যাদের জগৎটা একেবারেই ভিন্ন। আমাদের রান্নাঘর পিঁপড়েদের কাছে শুধুমাত্র একটি জায়গা নয়, বরং অগণিত রাসায়নিক সংকেতে ভরপুর এমন এক ক্ষেত্র, যে সংকেত শুধুমাত্র তারাই লক্ষ্য করতে পারে। চিনি, গুড়ের কণা, দুধ, চায়ের ফোঁটা, চামচে রয়ে যাওয়া ঘিয়ের দাগ বা রান্নাঘরের সিঙ্কের আর্দ্র জায়গা দিয়েই বেশিরভাগ পিঁপড়েরা খোঁজাখুঁজির কাজ শুরু করে।

পিঁপড়েরা নিজেদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে মূলত মিষ্টিযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর করে। যেহেতু এ ধরনের খাবারের ঘ্রাণ বাতাসে তীব্র হয় না, তাই পিঁপড়েরা খাবারের কণার সংস্পর্শে এলে তা শনাক্ত করার জন্য তাদের শরীরে উপস্থিত বিশেষ অ্যানাটমিকাল সিস্টেম ব্যবহার করে। পিঁপড়ের শরীরে উপস্থিত টেস্ট রিসেপ্টর বা স্বাদগ্রাহক খাবারের সংস্পর্শে আসা মাত্র চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও শনাক্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পিঁপড়েদের শুঁড়ে থাকা এই স্বাদগ্রাহককে একটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা প্রাকৃতিকভাবেই তাদের খাবার খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

জিপিএসের মতো নিখুঁত অবস্থান চিহ্নিতকরণ

খাবারের সন্ধান পাওয়ার পর পিঁপড়েরা কলোনিতে ফিরে যাওয়ার সময় এক বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করতে করতে যায়, যাকে ফেরোমোন বলা হয়। ফেরোমোন হলো জীবদেহ থেকে নিঃসৃত এমন এক ধরনের রাসায়নিক, যা একই প্রজাতির প্রাণীকে আকর্ষণ বা পথ দেখাতে সাহায্য করে।

যখন একটা পিঁপড়ে খাবার খুঁজে পায়, তখন তারা নিজেদের বাসায় ফিরে যাওয়ার পথে ফেরোমোনের একটা রেখা বা ট্রেইল তৈরি করে। গুগল ম্যাপসের মতো কলোনিতে বসবাসকারী অন্যান্য পিঁপড়েরা এই ফেরোমোন ব্যবহার করে খুব সহজেই খাবারের উৎস খুঁজে পায়।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় পিঁপড়ের মাথার সামনের অংশে থাকা অ্যান্টেনা বা শুঁড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই শুঁড়ের স্পর্শের মাধ্যমেই পিঁপড়েরা তাদের চারপাশ সম্পর্কে জানতে পারে, খাবার খুঁজে পায় এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

কোনো পিঁপড়ে যদি খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে বড়সড়ো কিছু খুঁজে পায় যা একা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তখন তারা ফেরোমোনের এই আধুনিক ‘জিপিএস’ ব্যবহার করে কলোনির অন্য সঙ্গীদের ডেকে আনে। এর মাধ্যমেই খাবার সংগ্রহের পুরো কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা