বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নুর হোসেন জিসানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দলের সদস্যরা নদীর তলদেশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। নদীর তীর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গভীর পানিতে তার লাশ পাওয়া যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জিসান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী। বন্ধুদের সাথে বেড়াতে এসে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে চার বন্ধু ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকায় ঘুরতে আসেন। সেখানে গোলামের হোটেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর তারা যমুনা নদীতে গোসল করতে নামেন। বেলা আড়াইটার দিকে গোসলের সময় নদীর নরম বালুতে পা দিতেই জিসান পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন।
এ সময় তার বন্ধু মাহিন হাসান তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। প্রায় দুই মিনিট ধরে জিসানকে হাত দিয়ে ধরে রাখলেও একপর্যায়ে তিনি বন্ধুর হাত ফসকে নদীর গভীরে তলিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন জিসান।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও এনায়েতপুর থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রোববার রাতেও নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সোমবার সকালে রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দলের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জিসানের লাশ উদ্ধার করেন।
জিসানের বন্ধু মাহিন হাসান বলেন, ‘আমরা চার বন্ধু ঢাকা থেকে ঘুরতে এসেছিলাম। হোটেলে খাওয়াদাওয়া শেষে নদীতে গোসল করতে নামি। আমরা কেউই ভালো সাঁতার জানতাম না। নদীতে কাদা ছোড়াছুড়ি করে খেলছিলাম। জিসান যেখানে পা দিয়েছিল, সেখানে বালু নরম ছিল। পা দিতেই সে ডুবে যায়। আমি তাকে প্রায় দুই মিনিট ধরে রেখেছিলাম। পরে হাত থেকে ফসকে নদীর গভীরে চলে যায়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।’
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, রবিবার থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সোমবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন চৌহালী নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মান্নান।
বন্ধুদের সাথে আনন্দভ্রমণে এসে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


