...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

বাবার সাথে শেষ ফোনালাপে সৈকতে বেড়ানোর কথা বলেছিলেন নাহিদ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:২৫
Shares
বাবার সাথে শেষ ফোনালাপে সৈকতে বেড়ানোর কথা বলেছিলেন নাহিদ

নাহিদের পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

‘শুক্রবার রাতেও নাহিদের সাথে শেষ কথা হয়েছিল। ফোন করে বলছিল, সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে। বুধবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালের অগ্নিকাণ্ড আমাদের সব স্বপ্ন আর হাসিখুশি শেষ করে দিল’। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন যশোরের মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান।

কক্সবাজার ইনানী সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মতিয়ার রহমানের ছোট ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৮) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

মতিয়ার রহমান বলেন, আমি দেড় মাস আগে গ্রামে এসেছি। বুধবার আবার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ছোট ছেলে নাহিদের কাছেই আমি থাকি। শুক্রবার রাতেও কথা হলো। সবাইকে নিয়ে বিচে আনন্দ করছিল। ওর সাথে আর কথা বলা হবে না আমার। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন নাহিদ। তিনি রাজধানীর শ্যামলীতে ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে মিরপুরে থাকতেন। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের ওই রিসোর্টটিতে বুকিং দিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি।

সবশেষ পাওয়া তথ্যনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, তবে বাকি ৪ জনের শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে নিখোঁজ নাহিদের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকে ভাই, ভাবি ও দুই ভাতিজির আর কোনো খোঁজ মিলছে না। তারা আগুনে ভস্মীভূত অজ্ঞাত মরদেহগুলোর তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এরইমধ্যে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

তিনি বলেন, যে চারটি মরদেহ রয়েছে তারমধ্যে দুটি শিশু আছে। তবে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারছিনা। চেহারা চেনার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আহতদের মধ্যেও আমার ভাই, ভাবি নেই। পরিচয় শনাক্তের জন্য চেষ্টা চলছে এর বেশী আর কিছু বলতে পারব না। 

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘টুপটুপ রিসোর্টের’ মেমো থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং দিয়েছিলেন নাহিদ। 

নাহিদের চাচা খালিদুর রহমান জানান, ঢাকার কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত নানা সূত্রে যোগাযোগের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে নিখোঁজ ৪ জনের পরিচয় এখনও পুলিশ বা প্রশাসন উদ্ধার করতে পারেনি। পুড়ে যাওয়া চার মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।