ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশে ফুটবল খেলা ও অবসর কাটানোর সুযোগ করে দিতে দুটি নতুন ‘ফিফা অ্যারেনা’চালু করেছে ফিফা। মাঠ দুটি স্থানীয় শিশুদের নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিকভাবে একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফিফার সাথে ছিল ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সুইজারল্যান্ড সরকার।
নতুন দুটি মাঠের একটি তৈরি হয়েছে পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের দক্ষিণে মারাহ রাবাহ এলাকায়, অন্যটি উত্তরাঞ্চলের কুসিনে। ফিফা ও ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে মাঠ দুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স।
পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিশুর জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন মাঠ দুটি শিশুদের ফুটবল খেলা ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করবে।
মাঠ দুটি উদ্বোধনকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ইউনাইট ফর পিস: কিডস কাপ’। স্থানীয় ১৪টি দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ১৬০ শিশু। গ্রুপ পর্বের পর হবে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশু ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য থাকছে আরও বেশ কিছু ফুটবলকেন্দ্রিক কার্যক্রম।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মনে করেন, মাঠ দুটির সাফল্য শুধু উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রতিদিন কীভাবে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যেসব সম্প্রদায়ের শিশুদের জীবন বিধিনিষেধ ও অনিশ্চয়তায় ব্যাহত হয়, তাদের জন্য খেলার, বন্ধুদের সাথে দেখা করার জায়গা থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘কিডস কাপ’। তবে মাঠ দুটি শুধু এই প্রতিযোগিতা বা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য নির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শিশু ও কমিউনিটির নিয়মিত ব্যবহারের জন্যই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
‘ফিফা অ্যারেনা’কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠের পাশাপাশি স্থানীয়দের ফুটবল সরঞ্জামও দেওয়া হচ্ছে। ফলে ‘কিডস কাপ’শেষ হওয়ার পরও সেখানে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত অনুশীলন ও খেলাধুলার সুযোগ থাকবে।


