বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং রোড মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
১৩ থেকে ১৫ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীলদের নিয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ও জনগণের দাবি আদায়ে আগামী নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং রোড মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় পর্যায়ে ১১ দলের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শ চর্চা ও সঠিক আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সাথে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব পরিবারের সুরক্ষা ও গঠন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম।
মাওলানা এটিএম মাসুম তার বক্তব্যে বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের সচেতন থাকতে হবে। পরস্পরের দোষত্রুটি অহংকারমুক্ত হয়ে ব্যক্তিগতভাবে শুধরে নেওয়ার চর্চা বাড়াতে হবে এবং মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অবস্থানকে আরও মজবুত করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও আতিথেয়তার দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপির নেতৃত্বে স্থানীয় জেলা সংগঠন।


