...|...|...

সারাদেশ

নতুন সংসার পাততেই দুই কন্যাশিশুকে রাস্তায় ফেলে গেলেন মা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩৪ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৪৮
Shares
নতুন সংসার পাততেই দুই কন্যাশিশুকে রাস্তায় ফেলে গেলেন মা

দেড় বছর বয়সী রোজা এবং তার বড় বোন পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত। ছবি: সংগৃহীত

নতুন সংসার পাততে গিয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই কন্যাশিশুকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন তাদের মা। 

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকার রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ফেলে রেখে যাওয়া শিশু দুটি হলো দেড় বছর বয়সী রোজা এবং তার বড় বোন পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত। তারা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের মো. নাছির ও জেসমিন দম্পতির মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় শিশু দুটিকে একা দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত জানায়, তাদের মা চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে আসেন এবং পরে কোথায় যেন চলে গেছেন, আর ফিরে আসেননি।পরে শিশু দুটির পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। সেই ছবি ও ভিডিও দেখে শিশু দুটির এক চাচি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।পরে স্থানীয়রা তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে শিশু দুটিকে তার জিম্মায় হস্তান্তর করেন।

শিশুদের চাচি স্থানীয় লোকজনকে জানান, শিশু দুটির বাবা নাছির কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। তারা আগে কুমিল্লা শহরেই বসবাস করতেন। তবে চার মাস আগে নাছির ও জেসমিনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে শিশুদের চাচি মোবাইল ফোনে শিশু দুটির মা জেসমিনের সাথে কথা বলেন। ফোনে জেসমিন জানান, তিনি ইচ্ছে করেই শিশুদের ফেলে গেছেন এবং তাদের আর ফিরিয়ে নেবেন না। এদিকে শিশু দুটির বাবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া রিপন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। জানতে পেরেছি, বাচ্চা দুটির মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের ব্রাহ্মণপাড়া সদরে রেখে কুমিল্লা চলে গেছেন মা। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের এক স্বজনের কাছে নিরাপদে রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। স্থানীয় এক চিকিৎসক আমাকে ফোন করেছিলেন। তবে দাদা বাড়ির লোকজন ওই চিকিৎসকের দোকানে চলে আসায় তাদের কাছেই দুই শিশুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।