...|...|...

অর্থনীতি

কর্ণফুলী ইপিজেড

দুই দশকে রফতানি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৫ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৬
Shares
দুই দশকে রফতানি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

দেশের রফতানিমুখী শিল্পায়নের অগ্রযাত্রায় দুই দশক পূর্ণ করেছে কর্ণফুলী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর থেকে গত ২০ বছরের পথচলায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পণ্য রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে ১৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেড’-এর জমিতে গড়ে উঠেছে আজকের এই আধুনিক ইপিজেড।

১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা ও ব্যবস্থাপনার নানা সংকটে লোকসানের মুখে পড়ে ১৯৯৯ সালে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজার হাজার শ্রমিক, নেমে আসে নীরবতা।

পরবর্তীতে পতেঙ্গার এই জনপদকে পুনরুজ্জীবিত করতে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উদ্যোগে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ২০০৪ সালে বিলুপ্ত চিটাগাং স্টিল মিলসের সমুদয় জমি (২২২.৪২ একর) বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুরোনো জরাজীর্ণ স্থাপনা অপসারণ ও মাটি ভরাটের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলে বেপজা। অবশেষে ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

২০০৭ সালের নভেম্বরে ‘পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লি.’-এর মাধ্যমে এই ইপিজেড থেকে প্রথম পণ্য রফতানি শুরু হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মাত্র ৯.৮৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে শুরু হওয়া রফতানি বাণিজ্য ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে ১৪,১৫৬.৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের সাফল্যের অন্যতম বড় দিক হলো এর পণ্যের বৈচিত্র্য। কেবল তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ না থেকে এখান থেকে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আধুনিক ফার্নিচার, ব্যাগ, আন্ডারগার্মেন্টস, ফ্যাশন ও সেফটি জুতো। বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এসব পণ্য সমাদৃত হচ্ছে, যা দেশের রফতানি ঝুড়িকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

শুরুতে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা করলেও ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত কর্ণফুলী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইপিজেডের ২৫৮টি শিল্পপ্লট এবং ৫টি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবনের পুরোটারই বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে এখানে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারীদের চালু থাকা ৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি, ৩টি যৌথ এবং বাকি ৮টি দেশীয় মালিকানাধীন। এ ছাড়া আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বিপ্লব ঘটিয়েছে কর্ণফুলী ইপিজেড। বর্তমানে এই শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও প্রায় ১ লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে রাখছে অনন্য অবদান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক, বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভির হোসেন, বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ এবং কমপবেলি গ্লোবাল লিমিটেডের সিইও লি হেঙ্গোসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।