ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তার বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরিকে প্রায় ছয় বছর ধরে চিনতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাহসিফের মৃত্যুর পর আলোচনায় এসেছেন এই তরুণ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের কাছে নিজের পরিচয়, তাহসিফের সাথে সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের কথা তুলে ধরেন দ্বীপ। একই সাথে জানান, ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সাথে কাটানো সময়ের বিবরণ।
বড় ভাইয়ের মতো সম্পর্ক, ব্যবসায়িক যোগাযোগও ছিল
দ্বীপের ভাষ্য, তাহসিফ তার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। বয়সে বড় হওয়ায় তাকে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন। ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি ব্যবসার সূত্রেও তাদের যোগাযোগ ছিল।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল এর আগে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে সম্প্রতি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই ব্যবসা দেখাশোনা করতেন দ্বীপ।
ব্যবসায়িক যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন দ্বীপও। তার ভাষ্য, ব্যবসা নিয়ে পরিচিতদের মধ্যে ব্যক্তিগত মনোমালিন্য হতে পারে। তবে বিষয়টি তেমন বড় কিছু ছিল না।
দুই পরিবারের মধ্যেও পরিচয় ছিল। তাহসিফের বাবা জানান, দ্বীপের বাবা-মা একবার তাদের বাসায় গিয়েছিলেন।
মোটরসাইকেল মেরামতের পর একসাথে রাতের খাবার
২৭ অক্টোবরের ঘটনাক্রম তুলে ধরে দ্বীপ জানান, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি চালু হচ্ছিল না। মোটরসাইকেল সম্পর্কে ধারণা থাকায় এ বিষয়ে তার পরামর্শ চান তাহসিফ। এরপর তিনি তাহসিফের বাসায় যান।
দ্বীপের বর্ণনা অনুযায়ী, দুজনে প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে মোটরসাইকেলটি চালু করেন। পরে সেটি একটি ওয়ার্কশপে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় মেরামতের পাশাপাশি তেলও পরিবর্তন করানো হয়।
কাজ শেষ হলে দ্বীপকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান তাহসিফ। এরপর উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় একসাথে খাবার খান তারা।
খাবার শেষে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে বের হন। দ্বীপ জানান, রাত ১২টার দিকে উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় পৌঁছে তারা আলাদা পথে চলে যান।
সেদিন তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি বলে দাবি করেন দ্বীপ। খাবারের সময় তাহসিফের এক বন্ধু ফোন করেছিলেন বলে তার মনে পড়ে। তবে সেই কথাবার্তাও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।
ফোন বন্ধ পেয়ে চার্জ শেষ হওয়ার কথা ভেবেছিলেন
দ্বীপের দাবি, নিজের বাসায় পৌঁছে তাহসিফকে ফোন করেন তিনি। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পান। রেস্তোরাঁয় তাহসিফ পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন চার্জ করছিলেন। তাই চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি।
পরদিন সকালে আবারও তাহসিফকে ফোন করেন দ্বীপ। সেবারও যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দ্বীপ জানান, এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করার মতো অবকাশ তার নেই। পরিচয়ের পর থেকে তাহসিফের সাথে এমন কোনো কথোপকথনও হয়নি, যা থেকে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছিলেন তিনি।
দ্বীপ বলেন, ‘বাকি ১০ জন যেমন রহস্যের মধ্যে আছে, আমিও একদম একই রহস্যের মধ্যে আছি।’
ছোট ভাইকে দেখে রাখার কথা বলতেন তাহসিফ
দ্বীপের ভাষ্য, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তাকে বলতেন, তিনি না থাকলে যেন তার ছোট ভাইকে দেখে রাখেন। তবে তাহসিফ কেন এমন কথা বলতেন, তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি দ্বীপ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে তাহসিফের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। দ্বীপ জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। এ নিয়ে তাহসিফের সাথে তার কোনো আলোচনা হয়নি।
ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে তাহসিফের লাশ নেওয়ার সময় সেখানে গিয়েছিলেন বলেও জানান দ্বীপ। এরপর পরিবারের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে আর বাইরে বের হননি বলে তার ভাষ্য।
দ্বীপের দাবি, ২৭ অক্টোবর রাতে আলাদা হওয়ার পর তাহসিফের সাথে তার আর যোগাযোগ হয়নি। সেদিন রাতে এরপর কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য তার জানা নেই।


