দীর্ঘদিন আগে চুরি হয়ে যাওয়া মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষার্থী। ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের উদ্যোগে এবং ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম পুলিশের সহযোগিতায় ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ফোনগুলো তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ফোন ফিরে পেয়ে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
ফোন ফিরে পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—মার্কেটিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সাইদুল ইসলাম ইফাস, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. রাকিব হোসেন এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জয়নাল আবেদীন। তাঁদের ফোন যথাক্রমে ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চুরি হয়েছিল।
ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন বাধার মুখেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতির চেয়েও শতগুণ বেশি কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিন শিক্ষার্থীর ফোন ফিরে পাওয়ার ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সহযোগিতা ও ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সমন্বয়ে ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখে তিনি খুশি হয়েছেন বলেও জানান। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করাই ডাকসুর কাজ।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনের টাকা জমিয়ে মুঠোফোন কেনেন। কিন্তু চুরি, ছিনতাই কিংবা অসাবধানতাবশত ফোন হারিয়ে গেলে তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েন। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুসাদ্দিক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডাকসুর পক্ষ থেকে সরাসরি সমন্বয় ও যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা যায়। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানানোর পর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন তাঁরা। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই তিন শিক্ষার্থীর ফোন উদ্ধার করে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ফোন উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটি সাইবার ক্রাইম পুলিশের অধিনায়ক রেজাউল করিমকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান মুসাদ্দিক। তিনি বলেন, রেজাউল করিম মল্লিক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা করে আসছেন। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের ফোন ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের মুখের হাসিকেই কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


