...|...|...

সারাদেশ

গলার লকেটে পরিচয় শনাক্ত হওয়া সেই স্কুলশিক্ষিকার দাফন

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:১৩
Shares
গলার লকেটে পরিচয় শনাক্ত হওয়া সেই স্কুলশিক্ষিকার দাফন

ছবি: টাইমস টুডে

গলায় থাকা লকেট দেখে শনাক্ত করা হয়েছিল পরিচয়। দীর্ঘ ১১ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হলো কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তাকে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুক্তা। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের লাশের মধ্যেও তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রিয়জনের খোঁজে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।

অবশেষে নতুন করে তল্লাশি চালিয়ে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় মুক্তার দেহাবশেষ। এতে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে আরও আগেই তার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যেত। উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি ও পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘ ১১ দিনের অপেক্ষার অবসান হলেও স্বজনদের কাছে ফেরেননি মুক্তা। যে মানুষটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা, শেষ পর্যন্ত ফিরল তার নিথর দেহাবশেষ।

বৃহস্পতিবার সকালে দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।