...|...|...

স্বাস্থ্য

গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস সন্তানের জিনের কার্যকারিতায় কতটা প্রভাব ফেলে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৫৯ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:৩২
Shares
গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস সন্তানের জিনের কার্যকারিতায় কতটা প্রভাব ফেলে

নিউট্রিশন এন্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। ছবি: সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় একজন মা সারাদিন কী খাচ্ছেন, তা শুধুই তার নিজের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে বিষয়টি এমন নয় বরং গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর বিকাশ বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আধুনিক বিজ্ঞানে এ বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা হলো এপিজেনেটিক্স স্টাডি করা।

সহজভাবে বললে, আমাদের DNA- এর মূল গঠন বা sequence সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে। তবে কোন জিন কখন সক্রিয় হবে, কোনটি কম সক্রিয় থাকবে তা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে এপিজেনেটিকাল পরিবর্তন বলা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিএনএ মিথাইলেশন ও হিস্টোন মডিফিকেশন।

মায়ের খাবারের সাথে এপিজেনেটিক পরিবর্তনের সম্পর্ক আছে

ভ্রূণের দেহে। তাই গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশের সময় মায়ের খাদ্য থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন মেটাবলিক পদ্ধতিতে জিন রেগুলেশনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফোলেট, ভিটামিন বি ১২, বি৬, কোলিন,ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড,ইনোসিটল, ও মেথিওনিন DNA মিথাইলেশন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত।

অন্যদিকে মায়ের  দেহের অপুষ্টি, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, স্থূলতা কিংবা দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ভ্রূণকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় গর্ভকালীন পুষ্টির সাথে একজন শিশুর পরবর্তী জীবনের ওজনাধিক্য, ওবেসিটি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ- এর বিভিন্ন সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে ব্যাপারটা এমন নয় যে, মা কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই শিশুর নির্দিষ্ট কোনো জিন রাতারাতি বদলে যাবে। বরং খাদ্য ও পরিবেশের প্রভাবে জিনের কার্যকারিতা বা জিনের এক্সপ্রেশনের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের প্রয়োজন  বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা। পর্যাপ্ত আমিষ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, হলুদ-কমলা রঙের সবজি, গাঢ় শাকপাতা স্বাস্থ্যকর চর্বি (ওমেগা-৩ ও ৬) এবং প্রয়োজনীয় পানিতে দ্রবণীয় ও চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, মিনারেলস (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন) নিশ্চিত করা উচিত প্রেগনেন্সির ট্রাইমস্টার অনুযায়ী।

বিশেষ করে ফলিক এসিড (নিউরাল টিউব ডিফেক্ট কমাতে), আয়রন (রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে), আয়োডিন (সঠিক ব্রেইন ফাংশনে), ভিটামিন বি১২, কোলিন ও ওমেগা-৩ (ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট) এবং ভিটামিন D- এর মতো পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী দেহে কোনো ঘাটতি থাকলে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শে supplement গ্রহণ করা যেতে পারে।

লক্ষনীয়, গর্ভকালীল পুষ্টি শুধু শিশুর শারীরিক গঠনের জন্য নয়, তার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের ভিত্তি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মায়ের সুষম খাদ্যাভ্যাস শুধু নিজের সুস্থতার জন্য নয়, অনাগত সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ইসরাত জাহান প্রিয়ানা, নিউট্রিশন এন্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট 

 এভার ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার,ওয়ারী হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাভার