...|...|...

সারাদেশ

খাল খনন না করেই ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৪৪
Shares
খাল খনন না করেই ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় খাল সংস্কারের কাজ নথিপত্রে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে ৩০ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশে এক দশকের পলি-ময়লা, অসম্পূর্ণ খননকাজ এবং নির্ধারিত অবকাঠামোর অনুপস্থিতি দেখা গেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অসম্পূর্ণ কাজের চূড়ান্ত বিল সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন বলেছেন, বিষয়টি নথি না দেখে বলা সম্ভব নয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি) প্রকল্পের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ‘পি টু ডি’ ও ‘পি টু ডি ১/১’ খাল সংস্কার, বেড ব্লক ও টিবিএম অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আম্মার ট্রেডার্স’।

অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে সামান্য কিছু কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রথম চলতি বিল নেয়। পরবর্তীতে প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন সদর উপজেলায় যোগ দেওয়ার পর অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফ হাজীবাড়ি থেকে মিরশাহ্ আলম চেয়ারম্যানবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার অংশে কোনো খননকাজ দেখা যায়নি।

চেয়ারম্যানবাড়ির উত্তর থেকে সুলতান ভূঁইয়া বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশেও খালের তলদেশ খনন না করে শুধু ভাসমান ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ছাড়া চৌধুরীবাড়ি থেকে কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার অংশের দুই প্রান্তে সামান্য পরিষ্কার করা হলেও মাঝের অংশের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের আওতায় খালের স্থায়িত্ব, তলদেশের ক্ষয়রোধ ও সঠিক লেভেল নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট চেইনেজে বেড ব্লক ও টিবিএম স্থাপনের কথা ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে মোট ৯টি বেড ব্লক এবং ১৮টি টিবিএম নির্মাণের কথা থাকলেও সরেজমিনে এর কোনোটি পাওয়া যায়নি। গভীরতা পরিমাপের জন্য স্থায়ী কোনো চিহ্ন বা খুঁটিও দেখা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক বলেন, খালে তেমন মাটি কাটা হয়নি। বর্ষায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আগের মতোই জলাবদ্ধতায় ভুগতে হচ্ছে স্থানীয়দের। অথচ প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নেওয়ার কথা শুনেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ফাইনাল বিল দেওয়া হয়েছে কি না, তা নথি না দেখে বলা সম্ভব নয়। পরে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানান তিনি।

এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত করা হলেও কিছু টাকা আটকে রাখা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নকাজের বিল ছাড়াতে কমিশন দাবি, অসম্পূর্ণ ভবনের বিপরীতে বিল পরিশোধ এবং সহকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে ফেনীর পরশুরামে বদলি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে অল্প সময়ের ব্যবধানে চন্দ্রগঞ্জ এবং পুনরায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পদায়ন করা হয় বলেও জানা গেছে।