...|...|...

ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস গণতন্ত্র হত্যা বিএনপি-ছাত্রদলের ঐতিহ্য: এস এম ফরহাদ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১০ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১২
Shares
ক্যাম্পাস গণতন্ত্র হত্যা বিএনপি-ছাত্রদলের ঐতিহ্য: এস এম ফরহাদ

এস এম ফরহাদ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা বিএনপি ও ছাত্রদলের চিরায়িত ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে কলেজের একাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ফরহাদ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের বিজয়ের কথা বলেছে। গণতন্ত্র অটুট রাখার অঙ্গীকারও করেছে। কিন্তু ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া সংসদে গিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডাকসুর জিএস বলেন, ১৯৯০ সালের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল জয়ী হয়। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের দলের লোকজন ও উপাচার্য ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। এ সময়ে ডাকসু নির্বাচন বন্ধ করে ক্যাম্পাসে গণরুম-গেস্টরুমসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরহাদের ভাষ্য, ভোলা সরকারি কলেজেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মসূচি প্রথমে ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানটি বানচাল করতে রাজনৈতিক অসদাচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার মতো নানা চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার বদলে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফরহাদ বলেন, মুশকিল হচ্ছে ছাত্রদল এগুলো করে শিক্ষার্থীদের জন্য প্লাটফর্ম পরিণত না হয়ে শিক্ষার্থী বিচ্ছেদ একটা সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।

ভোলা সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আয়োজিত অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসে করতে না পারার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সন্ত্রাসী অ্যাপ্রোচের কারণে তাদের এ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডাকসুর জিএস বলেন, আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে যেমনটা বলেন গণতন্ত্রের কথা, আল্লাহর অস্তে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যার যে রাজনীতি আপনারা শুরু করেছেন এটা বন্ধ করেন। এটা বন্ধ না করলে এ তরুণরা আপনাদেরকে আগামীতে মোনাফেক হিসেবে চিনবে- যে সংসদে মোনাফেক শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের কথা বলে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, ভোট ও কথা বলার অধিকারকে হত্যা করে। আমরা এ দ্বিচারিতা তাদের কাছ থেকে চাই না।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেন তিনি।

ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসানসহ অন্যরা।