...|...|...

সারাদেশ

কারাগারে উশৃঙ্খল আচরণ করায় তারেক সাঈদকে পাঠানো হলো কিশোরগঞ্জে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৪০
Shares
কারাগারে উশৃঙ্খল আচরণ করায় তারেক সাঈদকে পাঠানো হলো কিশোরগঞ্জে

সাবেক বরখাস্ত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে কারাবিধি লঙ্ঘন, অশোভন আচরণ ও উশৃঙ্খলতার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তাকে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শাস্তির অংশ হিসেবে এক মাসের জন্য তার টেলিফোনে যোগাযোগ, পারিবারিক সাক্ষাৎ ও অন্যান্য সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেল সুপার জানান, প্রশাসনিক কারণে গত ৫ জানুয়ারি তারেক সাঈদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুন্সিগঞ্জে আনা হয়। সেখানে আসার পর থেকেই তার আচরণ নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ আসতে থাকে। তিনি কারাবিধি অনুসরণ না করে নিজের মতো চলতেন এবং কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথেও অসম্মানজনক আচরণ করতেন বলে জানান তিনি।

জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি মুন্সিগঞ্জ কারাগারে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্যান্য সেলে থাকা বন্দিদের দেখতে যান। এ সময় তারেক সাঈদ তার সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং তাকে সেল এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। পরে কারাবিধি অনুযায়ী তার পারিবারিক সাক্ষাৎ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর কিছুদিন পর আরেকটি ঘটনা ঘটে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিদর্শনের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি মো. কামাল হোসেন আগে থেকে সেলে রাখা ময়লাযুক্ত পানি জেল সুপারের দিকে ছুড়ে মারেন।

ঘটনার পর কামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন, তারেক সাঈদ তাকে এ ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ও ইন্ধন দিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রতিদিন পাওয়া সিগারেট তাকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানান কামাল।

জেল সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সাঈদের উপস্থিতিতে কামাল হোসেন আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটালে তাকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করার কথাও তাকে বলা হয়েছিল।

এ ঘটনায় কারাবিধি অনুযায়ী দুজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কামাল হোসেনকে এক মাস ডান্ডাবেড়ি পরানো এবং অন্য কারাগারে স্থানান্তরের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তারেক সাঈদের টেলিফোনে যোগাযোগ, পারিবারিক সাক্ষাৎসহ সব ধরনের যোগাযোগ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

জেল সুপার জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, তারেক সাঈদের আচরণ উগ্র, বদমেজাজি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও উশৃঙ্খল। কারা কর্তৃপক্ষ তার আচরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হলে তিনি বিভিন্নভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক সাঈদকে কারাগারে কয়েকজন কারারক্ষী মারধর করেছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেল সুপার তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ৪-৫ জন কারারক্ষী দিয়ে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তারেক সাঈদ বা তার স্বজনদের মাধ্যমে কারাকর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, তারেক সাঈদ মোহাম্মদ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা দুটি মামলাতেও তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।