...|...|...

রাজনীতি

আমিতো গুলি করি নাই, কাউকে ভয়ও দেখাই নাই: ইশরাক

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৮
Shares
আমিতো গুলি করি নাই, কাউকে ভয়ও দেখাই নাই: ইশরাক

মাদকের আস্তানায় পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অভিযান। ছবি: টাইমস টুডে

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তার ফেসবুক পেজের পোস্টে উল্লেখ করা হয়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। সেখানে প্রতিমন্ত্রীর সাথে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।

ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্রের বৈধতা এবং এভাবে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় আগ্নেয়াস্ত্রের উল্লেখ না থাকলেও ইশরাক দাবি করেছেন, তার অস্ত্রটি বৈধ।

ইশরাক বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর তিনি অস্ত্রটি নেন। তার দাবি, ওই সময় মনোনয়নপত্রে অস্ত্রের তথ্য দেখানোর সুযোগ ছিল না। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর; তিনি জমা দেন ২৮ ডিসেম্বর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদের ‘ক’ উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে, এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।’

ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার জানান, স্থানীয়দের বারবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল ৩টার দিকে সেখানে যান প্রতিমন্ত্রী। পুলিশকে জানানো হলেও তারা পৌঁছাতে দেরি করে।

ইশরাকের ভাষ্য, গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ করেছেন। পুলিশকে জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তিনি সেখানে যান। পুলিশের জনবল ও যানবাহনের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত ৩০-৪০ বার পুলিশের সাথে বৈঠক করেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের গুলির আশঙ্কায় তিনি অস্ত্র নিয়েছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আর গুলি করি নাই, ওটা নিয়ে কাউকে ভয়ও দেখাই নাই। হ্যাঁ, অভিযান আমরা করেছি, আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।’

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ১১ অক্টোবর ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। এতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরাও ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং অভিযান ও ফলাফল জানানো হয়।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশ দেওয়া, আর পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রীকেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামতে হলে পুলিশের কাজ কী? তার মতে, প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি।

ইশরাককে এর আগে পরিচ্ছন্নতা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে শনিবারের মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি তার পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।