বহুকাঙ্ক্ষিত নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য এই পুরস্কার পাওয়া নাভানেথাম নাভি পিল্লাইয়ের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজেই আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন, তাই তার আটটি নোবেল পাওয়া উচিত ছিল।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গত ৯ অক্টোবর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেওয়া দুটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প এই ক্ষোভ উগরে দেন।
দ্য ওয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাভি পিল্লাইকে নিয়ে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, আসলে আমার যদ্দূর জানা, ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য বিদ্বেষ ছাড়া এই মহিলাকে অন্য কেউ কোনো দিন চেনেই না। ওই নারী আর কী-ই বা করেছেন!
ট্রাম্প বলেন, আমি ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছি এবং যেসব দেশের সাহায্য করেছি, তাদের প্রতিটি দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে আমার পক্ষে চিঠি পাঠিয়েছেন। আমি আরও দুটি যুদ্ধ—ইরান এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের সংঘাত সমাধান বা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। উভয় যুদ্ধই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তবে সেগুলোর কথা বাদ দিই, আমি যে ৮টি যুদ্ধ ইতিমধ্যে থামিয়েছি—যার মধ্যে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সংঘাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সেগুলোর যেকোনো একটিই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রকৃতপক্ষে, আমার কেবল ১টি নয়, বরং ৮টি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।
যে আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি ট্রাম্পের
নিজের সাফল্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি কেবল একটি নয়, বরং আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। যুদ্ধগুলোর তালিকা দিয়ে তিনি জানান—কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, ইসরায়েল ও ইরান, মিশর ও ইথিওপিয়া, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন করেছেন তিনি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ থামানোকে নোবেল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যেসব দেশের সুরক্ষায় তিনি সহায়তা করেছেন, সেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা তার পক্ষে নোবেল কমিটির কাছে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মিসরে গাজা শান্তি সম্মেলনের সময় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং এর আগে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর জন্য ট্রাম্পের নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারে পুনরায় সুপারিশ করার কথা জানিয়েছিলেন। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের নোবেল অর্জনের এই দাবিকে সমর্থন করেছিল।
ন্যাটো বাজেট বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এতকিছুর পরও আমি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইনি। ওয়াও! তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন, যা সবাই অসম্ভব বলে মনে করত। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক আটকের ঘটনাকেও নিজের শান্তি প্রচেষ্টার অংশ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। বর্তমানে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ‘নারকো-সন্ত্রাসবাদ’-এর গুরুতর অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন এবং তিনি আদালতে বলেছেন যে তাকে কারাকাসের বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল।
নাভি পিল্লাইয়ের একটি ছবি ও পুরস্কারের ঘোষণার স্ক্রিনশট যুক্ত করে ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারটি এমন এক উদারপন্থী ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে যিনি জাতিসংঘে কাজ করেন এবং যাকে কেউ কোনো দিন শোনেনি। যে যুদ্ধগুলোর কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজের বলে দাবি করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশ সংঘাতই অবশ্য বর্তমানেও চলমান রয়েছে।
পোস্টের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প তীব্র আক্রমণ করে লেখেন, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার শত্রুদের একদল কট্টরপন্থী আদর্শবাদী নোবেল ‘শান্তি’ পুরস্কারকে চিরতরে কলঙ্কিত করেছে! এরপর তিনি স্বাক্ষর করেন—‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’।

