জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আজকে আমরা ঢাকায় গণবিক্ষোভ মিছিল করছি। আগামীতে আমাদের এই গণবিক্ষোভ মিছিল প্রত্যেকটি শহরে শহরে, অলিগলিতে প্রকম্পিত হবে। কারণ আমরা শপথ নিয়েছিলাম, জুলাইয়ে যে বাংলাদেশ নতুন করে গঠন করব, সেই বাংলাদেশ আমরা গড়ব।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের যে ভাইদের খুনি হাসিনা হত্যা করেছিল, সেই হত্যার বিচার নিশ্চিত করব। আমাদের ওসমান হাদি ভাইকে যারা হত্যা করেছিল, সেই উসমান হাদি ভাইয়ের খুনের বিচার বাংলাদেশে নিশ্চিত করব।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা গত এক সপ্তাহ যাবত মানুষের সাথে কথা বলেছি। আমরা ডেটা সার্ভে করেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারত প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের দ্রব্যমূল্যের দামের তুলনায় বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্য ২০ শতাংশ হলেও বেশি। বাংলাদেশের বিভিন্ন পোর্ট এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য ঢোকে, সেখানে একটি সিন্ডিকেট বসানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে বড় দুটি সিন্ডিকেটের নাম মেঘনা গ্রুপ আরেকটি বসুন্ধরা গ্রুপ। এই মেঘনা গ্রুপ গত মার্চ মাস থেকে বিএনপির যে নব্য জমিদারি, তারা গুলশান অফিসে কারখানা খুলেছে, সেখানে ৫ মিলিয়ন ডলার করে দিচ্ছে। এবং বসুন্ধরা গ্রুপ গত মাস থেকে বিএনপির সেই গুলশান অফিসে ৫ মিলিয়ন ডলার করে দিচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের প্রত্যেকটা মানুষ, যারা খেটে খায়, কুলি-মজুর, কৃষক, প্রত্যেকের আজ ঘরে টান পড়েছে। সরকার আমাদের পেটে লাথি দিয়েছে।
ঢাকার অটোরিকশা বন্ধ ও হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকাতে দুটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটা অটোরিকশা বন্ধ, আরেকটা হকার উচ্ছেদ। আমরা দুটি জনবান্ধব কর্মসূচিকে সমর্থন করি। কিন্তু বাংলাদেশে আপনি অটোরিকশা বন্ধ করছেন, গণপরিবহন আপনি ঢাকাতে ঠিক করছেন না। তাহলে যারা কর্মজীবী মানুষ, যারা বিভিন্ন অফিসে যাচ্ছেন, তারা কীভাবে যাবেন?
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, সরকারি বড় বড় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজ বাজেট আসে। তাদের জন্য প্রাডো কেনা হচ্ছে, কাল তাদের জন্য লেক্সাস কেনা হচ্ছে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনা হচ্ছে। লুটেরা শ্রেণি আপনার পকেট হাতিয়ে ঢাকাতে বড় বড় গাড়ি হাঁকাচ্ছে। কিন্তু আপনার সন্তান নিয়ে যদি কোনো হাসপাতালে যেতে চান, ঢাকাতে কোনো সুষ্ঠু পরিবহনব্যবস্থা নাই।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অটোরিকশা যেমন বন্ধ করতে হবে, আপনাদের এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে ঢাকাতে দ্রুতগতিতে গণবান্ধব গণপরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে। যদি না দিতে পারেন, তাহলে আপনাদের যে লুটেরা গাড়িগুলো রাস্তায় চলে, সেগুলো আমরা বন্ধ করে দেব। সরকারি অফিসের গাড়ি বন্ধ থাকবে। আগে জনগণের গণপরিবহনব্যবস্থা চলবে, তারপরে অন্যদের ব্যবস্থা হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনি টোকিও শহরে গেছেন, লন্ডন শহরে যাচ্ছেন, নিউইয়র্কে যাচ্ছেন, শহর থেকে শহরে, বন্দর থেকে বন্দরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনার চোখে কি সেখানে গণপরিবহনের ব্যবস্থা পড়ে না? তাহলে ঢাকায় এই গণপরিবহন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। এই জন্য আপনি এই লক্কড়-ঝক্কড় বাস আমাদের মাথার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। আমরা এগুলো মানব না। ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা ঠিক করতে হবে।
এছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা সবাই প্রস্তুত আছেন? মিছিল আরও বড় হবে। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে যেভাবে গণ–অভ্যুত্থান হয়েছিল, আমরা এখনো চুপ করে আছি। আগামীতে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ আমাদের নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে।’


