...|...|...

বিনোদন

আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:২৮
Shares
আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। প্রথম দিকে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে এ নিয়ে সরব হন তিনি। এবার নিজের জীবনের নানা ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) একটি শোরুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে নিজের জীবনের নানা জটিলতা নিয়ে মন্তব্য করেন পরীমনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার ভাগ্য মনে হয় এটাই লেখা- সারাজীবন ঝামেলা হবে, এই ঝামেলা নিয়েই যাব। আর আমি এটা মেনে নিয়েছি। আমার ভালো লাগে, এনজয় করি।’

কয়েক দিন আগে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীমনির নামে একটি আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পরীমনিও। এ সময় মানুষের সমর্থন ও তার সাহসী ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি তাকে আরও দৃঢ় হতে অনুপ্রাণিত করছে বলে জানান অভিনেত্রী।

পরীমনি বলেন, ‘সবাই যখন আমার সাহসকে সম্মান জানায়, তখন আরও সাহস পাই। মনে হয় সঠিক পথে আছি আমি।’

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরীমনি বলেন, বিষয়টি শুরুতে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে পরে বুঝতে পারেন, ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সেনসিটিভ। আমার মতো মানুষ এটা গায়েই নেওয়ার কথা নয়। প্রথম তিন-চার দিন আমি পাত্তা দেইনি। কিন্তু যখন দেখলাম এটা আর এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না, তখন কথা বললাম।’

এ ধরনের ঘটনা সাধারণ কোনো নারীর সাথে ঘটলে তার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পরীমনি। তিনি বলেন, অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন; কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নেন। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরীমনির মতে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হয়রানি করা শুধু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় নয়; এটি সামাজিকভাবেও গুরুতর উদ্বেগের কারণ। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির ফলে ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বাস্তবের মতো কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও সম্মতি ছাড়া আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার ব্যক্তির সম্মান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরীমনির ঘটনাটি ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে অনলাইনে নারীদের হয়রানি এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের বিষয়টি। বিশেষ করে ভুক্তভোগীর পরিচিতি ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে।

ব্যক্তিগত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া পরীমনি এবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব হলেও অন্য কোনো নারী একই পরিস্থিতির শিকার হলে তার পরিণতি আরও কঠিন হতে পারে। সে কারণেই এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে কথা বলা জরুরি বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।