...|...|...

খেলা

আট বছর পর টেস্টে ফিরেই ৩৩ বলে শূন্য ম্যাডিনসন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:১৫
Shares
আট বছর পর টেস্টে ফিরেই ৩৩ বলে শূন্য ম্যাডিনসন

ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিলেন নিক ম্যাডিনসন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটার। আট বছর পর টেস্ট দলে ফিরে ৩৩ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরেছেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারায় তার প্রত্যাবর্তনের গল্পে যোগ হয়েছে হতাশা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানের কিংসমিডে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে জায়গা পান ৩৪ বছর বয়সী ম্যাডিনসন। তাকে ওপেনিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল। ইনিংস শুরু করেন ট্র্যাভিস হেডের সাথে। তবে ক্রিজে বেশ কিছুক্ষণ টিকে থেকেও রানের খাতা খুলতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

গত বছর অণ্ডকোষের ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছিলেন ম্যাডিনসন। এর আগে ২০১৬ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি টেস্ট খেলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পান এই বাঁহাতি। তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আগ্রহ থাকলেও ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে তা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি তিনি।

ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিংসমিডের উইকেটে সময় গড়ানোর সাথে সাথে স্পিনাররা সুবিধা পেতে পারেন, এমন বিবেচনা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। একাদশে আরও জায়গা পেয়েছেন ম্যাট রেনশ ও অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টার। রেনশ ব্যাটিংয়ে পাঁচ নম্বরে এবং ওয়েবস্টার সাত নম্বরে নামার কথা।

অস্ট্রেলিয়ার একাদশে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনও আসে। সর্দি-জ্বরের কারণে শেষ অনুশীলন সেশন শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার কুপার কনলি। ফলে একাদশে জায়গা হয়নি তার। অন্যদিকে, ওয়ানডে সিরিজে পেটের পেশিতে চোট পাওয়ায় স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ফেরার আশায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন।

২০১৮ সালের আলোচিত ‘স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি’র পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। নিজেদের শেষ ১৪ টেস্টের ১৩টিতেই জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। এই সাফল্যের মধ্যে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের ঘটনাও রয়েছে। তবে গত বছরের নভেম্বরের পর এই সিরিজের আগে আর টেস্ট খেলেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

ম্যাচ শুরুর আগেই নিজেদের একাদশ ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। চোটের কারণে কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি ছিটকে যাওয়ায় পেস আক্রমণে পরিবর্তন আনতে হয়েছে দলটিকে। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন গতি তারকা অ্যানরিখ নরকিয়া। প্রথম পছন্দের স্পিনার কেশভ মহারাজের সাথে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে দলে রয়েছেন সাইমন হারমার।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপেও রয়েছে নতুন পরীক্ষা। ডেভিড বেডিংহামকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৬ ইনিংসে তিনি মূলত চার থেকে ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করেছেন। ফলে নতুন পজিশনে তার পারফরম্যান্সও থাকবে নজরে।

কিংসমিডে অতীতের পরিসংখ্যানে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পাল্লা ভারী। এই মাঠে নিজেদের সর্বশেষ তিন টেস্টেই জয় পেয়েছে অজিরা। নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তনের পর থেকে ২০১৮ সালের বিতর্কিত সফরের আগ পর্যন্ত দেশটির মাটিতে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে সফরকারীরা।