আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গেল দিবস। অবিবাহিত বা একা থাকা মানুষদের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উদযাপনের উপলক্ষ হিসেবে পরিচিত। একা থাকার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে নিজের জীবন, পছন্দ ও অর্জনকে উদযাপন করাই এ দিবসের অন্যতম বার্তা।
সিঙ্গেল দিবসের প্রচলন করেন কারেন রিড নামের এক ব্যক্তি। শুরুতে ১ জানুয়ারি দিবসটি পালনের কথা থাকলেও পরে ২০১৭ সাল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটি পালিত হলেও চীনে সিঙ্গেল ডে উদযাপন করা হয় ১১ নভেম্বর।
সঙ্গী না থাকার কারণে অনেকেই হতাশা বা একাকিত্ব অনুভব করেন। তবে একা থাকার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এ সময় নিজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং পছন্দের কাজগুলোতে সময় দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
নিজেকে ভালোবাসা ও নিজের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও সিঙ্গেল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অন্য কারও পছন্দ-অপছন্দের সাথে মানিয়ে চলার বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিজের প্রয়োজন ও আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তাই একা থাকার বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে নিজের মতো করে দিনটি উপভোগ করা যেতে পারে। সিঙ্গেল দিবসের মূল ভাবনাই হলো—একাকিত্বকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে নিজের জীবন ও স্বাধীনতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সিঙ্গেল ডে যেভাবে শুরু
‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গেল ডের উৎপত্তি চীনে। নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ১৯৯০-এর দশকে একা থাকা তরুণদের মধ্যে এ দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।
১১ নভেম্বর তারিখে চারটি ‘১’ থাকায় দিনটিকে একক ব্যক্তিদের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধারণা থেকেই নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী সিঙ্গেল ডে উদযাপনের উদ্যোগ নেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে দিবসটির ধারণা চীনের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এটি দেশটির জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ১১ নভেম্বর চীনে শুধু সিঙ্গেলদের উদযাপনের দিন নয়, বড় ধরনের কেনাকাটার দিন হিসেবেও পরিচিত। এদিন অনেকেই বন্ধু ও আত্মীয়দের সাথে সময় কাটান, ঘোরাঘুরি করেন এবং অনলাইন ও সরাসরি বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটা করেন।


