নারী ক্রিকেটে শক্তিমত্তায় ও সাফল্যে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বিপক্ষেই সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মিডল অর্ডার ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি। তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই!
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের নারী ব্যাটারদের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশের নারী ব্যাটারদের মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র দুজন। ওপেনার ফারজানা হক দুইবার ও নিগার সুলতানা জ্যোতি একবার এই স্বাদ পেয়েছেন।
ব্রিসবেনে রবিবার (১১ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩৪ বলে ১১৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন সোবহানা। তার ইনিংসে ছিল ১৮টি চার। ৮৮.০৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে দলের বিপর্যয় সামলে বাংলাদেশকে ২২০ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ব্যক্তিগত ১৩ বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন ফারজানা হক। এরপর দলীয় ৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন শারমিন সুলতানা ও শারমিন আক্তার। মাত্র ৭.২ ওভারে ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ১৯৫ রানের দুর্দান্ত জুটি বাংলাদেশের ইনিংসের চেহারা বদলে দেয়। একদিকে নিগার ছিলেন ধৈর্যশীল, অন্যদিকে সোবহানা খেলেছেন আক্রমণাত্মক অথচ নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট। দুজনের ব্যাটে ৮ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দুই শ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
৬৬ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন সোবহানা। এরপর ১২৩ বলে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম শতকের মাইলফলক স্পর্শ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১১৮ রান করে মেগান শুটের বলে বোল্ড হন এই ব্যাটার। তার বিদায়ে ভাঙে ১৯৫ রানের জুটি। দলীয় ২০৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন নিগার সুলতানা। ৯৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা বাংলাদেশ অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত ১১৪ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার। শেষ দিকে স্বর্না আক্তার ৭ বলে ৮ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন নিগার ও রাবেয়া খান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মেগান শুট। ১০ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। কিম গার্থ একটি উইকেট পেয়েছেন ৩৫ রানে। বাকি বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় জুটি ভাঙতে পারেননি।


