...|...|...

বিনোদন

অবশেষে বেরিয়ে এলো টাইগার শ্রফের ওপর হামলার নেপথ্যের কারণ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২২ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৯
Shares
অবশেষে বেরিয়ে এলো টাইগার শ্রফের ওপর হামলার নেপথ্যের কারণ

ছবি: সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনার তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুরুতে হামলাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন তদন্তকারীরা হামলাকারীদের পরিচয়, তাদের পেশা, পালানোর পরিকল্পনা এবং হামলার পেছনে দেওয়া প্রলোভন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন।

রাজস্থান পুলিশের দাবি, হামলায় জড়িত তিন অভিযুক্তকে শুধু মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়নি, বরং কাজ শেষ হলে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, এই লোভনীয় প্রস্তাবই তাদের হামলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারদের মধ্যে একজন হরিয়ানার সোনিপতের রেহান, আরেকজন বিহারের হৃতিক। তৃতীয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। হৃতিক পেশায় র‍্যাপিডো চালক, আর অন্য দুজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

রাজস্থান পুলিশের এসপি তেজস্বিনী গৌতম জানিয়েছেন, গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত রেহানকে টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার পর তিনজনের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে জয়পুরে নামা, সেখান থেকে বাসে করে দিল্লি চলে যাওয়া এবং সেখান থেকে নেপাল চলে যাওয়া। এরপর তারা আরও কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মুম্বাই পুলিশের কাছ থেকে তিন অভিযুক্তের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত অভিযানে নামে কোটা সিটি পুলিশ। সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে তথ্য পাওয়ার পর ট্রেনটি কোটা স্টেশনে পৌঁছালে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশের দাবি, মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেন খুঁজে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

এর আগে টাইগারের গাড়িতে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে একটি দায় স্বীকারের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগেই ফোনে সতর্ক করা হয়েছিল। সেই সতর্কতা উপেক্ষা করায় তাকে নিশানা করা হয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়। শুধু তাই নয়, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়।

তবে এই জায়গাতেই তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষ্ণোই চক্রের নামে দায় স্বীকারের পোস্ট ছড়ালেও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে হামলার পেছনে সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং জড়িত। ফলে পোস্টটি সত্যিই ওই চক্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কেউ তাদের নাম ব্যবহার করেছে—সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র আইন এবং মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে। ফলে তারা আগে থেকেই অপরাধজগতের সাথে যুক্ত ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের অংশ।

তদন্তকারীদের নজর এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে- হামলার জন্য অর্থের জোগান কে দিয়েছিল, বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি কার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, অনিল পণ্ডিতের সাথে বিষ্ণোই চক্রের সম্পর্ক কতটা গভীর এবং টাইগার শ্রফকে ঠিক কেন নিশানা করা হয়েছিল।

গ্রেফতার তিনজনকে মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেখান থেকেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সম্ভাব্য গ্যাং-সংযোগ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।