...|...|...

ক্যাম্পাস

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি বললেন ‘আমি অসুস্থ’, চিকিৎসক জানালেন ‘তিনি সুস্থ’

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৩ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০৫
Shares
অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি বললেন ‘আমি অসুস্থ’, চিকিৎসক জানালেন ‘তিনি সুস্থ’

অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি ও চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন স্বাভাবিক পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ভবনটিতে অবস্থান করছেন তিনি। তার সাথে রয়েছেন আরও ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, স্যারের পালস ও ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে। তিনি আমাকে ব্যথার কথা বলেননি। তিনি শুধু তার ব্লাড প্রেসার ও পালস কেমন আছে, তা দেখতে বলেছেন। তার ব্লাড প্রেসার ছিল ১২০/৮০।

চিকিৎসক আরও জানান, উপাচার্য নিয়মিত কোনো ওষুধ খান না। মাঝে মাঝে রক্তচাপের ওষুধ খান। বর্তমানে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বেড়ে গেলে ওষুধ খেতে হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। উপাচার্য শুধু অবরুদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করার কথা বলেছেন।

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছেন। আগের রাতে ঘুমাতেও পারেননি তিনি। ভবনের ভেতরে থাকা অন্যদেরও নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।

জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবস্থানের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধই থাকবেন। তাকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি স্বেচ্ছায় থেকে গেছেন। তবে, আমরা তাদের সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

এদিকে, চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বুয়েট ও রুয়েটের শিক্ষার্থীরাও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে চুয়েটে অচলাবস্থা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন।