বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা তুষার গ্রেপ্তার
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা যুবক তুষার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার তুষার ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া মহল্লার আবু তাহেরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে ঘটনার চার দিনের মাথায় সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তুষারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযানে নামেন তারা। উপজেলার ধানবান্ধি এলাকার জে সি রোডের মতিন সাহেবের ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তুষার তার হেফাজতে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে ভেলুপাড়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রায় ৬–৭ ইঞ্চি নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি লোডেড পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই রাউন্ড কার্তুজ জব্দ করা হয়।
ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তুষারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী-সমর্থক আহত হন। ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে।
সেই সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, তুষার নামে ওই যুবক পিস্তল উঁচিয়ে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে গুলি ছুঁড়ছে। তুষার বিএনপি নাকি জামায়াত কর্মী তা নিয়ে দুই দল পাল্টপাল্টি বক্তব্য দেয়।


