সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শহীদ মিনার ভেঙে স্মারকস্তম্ভ নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভাষা শহীদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার ভেঙে স্মারকস্তম্ভ নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাবেক ছাত্রনেতারা অংশ নেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাধানের পথ বের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা স্মারকস্তম্ভ কলেজের অন্যকোনো জায়গায় নির্মাণ এবং শহীদ মিনারের ভাঙা অংশ সংস্কারের দাবি জানান। পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের লেখক, গবেষক সুখেন্দু সেন, সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল হক, পঙ্কজ কান্তি দে, মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন, জাহাঙ্গীর আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, সালেহীন চৌধুরী, মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, নাসিম চৌধুরী প্রমুখ।
সাবেক ছাত্রেনতা ও জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন জানান, এটি জেলার প্রথম শহীদ মিনার, ইতিহাসের অংশ। এটি ভাঙা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কথা পর কলেজ কর্তৃপক্ষ এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন স্মারকস্তম্ভ কলেজের অন্য জায়গায় নির্মাণ ও শহীদ মিনার যেভাবে ছিল সেভাবে আবার সংস্কার করা হবে।
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "সাবেক ছাত্রনেতারা আমাদের কাছে এসে তাঁদের দাবির বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি এখানে নতুন। আমি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশলীর সঙ্গে দ্রুত কথা বলে সমস্যার সমাধান করব। "
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৬৬ সালে এই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি সুনামগঞ্জে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার।
প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো এই শহীদ মিনার এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে কলেজের ৭৫ বছর পূর্তির একটি স্মারকস্তম্ভ।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগর এলাকায় ১৯৪৪ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। সরকারিকরণ করা হয় ১৯৮০ সালে। কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২০ সালের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসব হয়। এই উৎসবের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তখন ক্যাম্পাসে একটি স্মারক স্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এটি নির্মাণের উদ্যোাগ নেয়।
সরকারি কলেজে স্মারকস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু হয় মাসখানেক আগে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, ‘সুনাম ফলক’ নামের এই স্মারকস্তম্ভের নকশা করেছেন ভাস্কর হামিদুজ্জামান। একইভাবে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তির একটি স্মারক নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শহরের সরকার সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তির দুটি স্মারকস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারি কলেজের স্মারকটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। কলেজ কর্তৃপক্ষ এই স্থানটি নির্ধারণ করেছে। এখানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো ভূমিকা নেই।


