ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আহত অন্তত ২৫ জন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয় এবং ১৩টি মোটরসাইকেলসহ আশপাশের অন্তত ১০টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, লিয়াকত মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, টিটু, জব্বার, ইমদাদুল হক ও লাভলুসহ অন্তত ২৫ জনের নাম জানা গেছে। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ আধিপত্য ও সাম্প্রতিক কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন ও ভবিষ্যৎ মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
এদিন বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। ওয়াপদা মোড় এলাকায় শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করছিলেন। অপরদিকে চৌরাস্তায় পৃথক কর্মসূচি পালন করছিলেন নাসিরুল ইসলামের সমর্থকেরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাসিরুল ইসলামপন্থীরা লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝুনু সমর্থকদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় আশপাশের ৮ থেকে ১০টি দোকানও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে ১৩টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে বিক্ষুব্ধদের হামলার মুখে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করে বলেন, “নাসির গ্রুপ বহিরাগত লোক এনে আমাদের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে।”
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, “ঝুনু মিয়ার সমর্থকেরাই আগে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরের লোক এনে উসকানি দিয়েছে।”
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, “হাসপাতালে সাতজন আহত অবস্থায় আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে রয়েছে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “এমন সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রত্যাশিত ছিল না, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”


