"নিষিদ্ধ সংগঠনের মশাল মিছিল: নির্বাচনের আগ মুহূর্তে উত্তেজনা"
শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মশাল মিছিল করেছেন। গতকাল শনিবার (১ নভেম্বর) মধ্য রাতে মাছপাড়া কেন্দুয়ার চর এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মিছিল স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ঘটনাটির প্রতিবাদে রাতেই জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসেম আহমেদ সিদ্দিকী বাবু বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে মিছিল করছে—এটি আইন অমান্যের স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। যারা হামলা ও হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।’
এনসিপির জেলা প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া বলেন, ‘আমার ভাইদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কিভাবে মিছিল করে? প্রশাসনকে আহ্বান জানাই—অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, না হলে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।’
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মোর্শেদ জিতু বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের মধ্যরাতের মশাল মিছিল আইনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের উচিত শুধু মামলা নয়, এর পেছনের মদদদাতাদেরও খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।’
প্রতিবাদে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসেম সিদ্দিকী বাবু ও যুবদল নেতা পারভেজের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চরমোচারিয়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এবং পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’


