যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন: আন্দোলনকারীর নামও আসামি তালিকায়!
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় তাহিরপুর থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা দায়ের করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর, অন্যটি ইজারাদারের পক্ষে। এই দুই মামলায় ৮৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ আছে, এসব মামলায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় উপজেলার সোহালা গ্রামের বাসিন্দা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আফতাব উদ্দিন, তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রাকাব উদ্দিন, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা বিশ্বজিৎ সরকার, নদী তীরের বাসিন্দা মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বারের নাম রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় লাউড়েরগড় গ্রামের তরুণ ফটোগ্রাফার আলী হোসেনও আসামি তালিকায় রয়েছে।
ঢাকায় থাকা আলী হোসেন বলেন, “ভাইয়ের বিয়েতে বাড়িতে এসেছিলাম, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম, ছবি ও ভিডিও দিয়েছিলাম। এখন দেখি আমার নামও মামলায় এসেছে, এতে অবাক হয়েছি।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, “আমরা যাচাই-বাছাই করেই আসামির তালিকাটি করেছি। যদি নির্দোষ কারো নাম চলে আসে, আমরা সেটাও দেখবো।”
এর আগে গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) ইজারাদারের পক্ষে মোশারফ হোসেন আরির তালুকদার নামের এক ব্যক্তি থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ওই মামলায় বালু উত্তোলনবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইজারাদার মো. নাছির মিয়া জানান, “স্থানীয় সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যসহ নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যারা ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তাদেরই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আন্দোলনকারী বা প্রতিবাদকারী কাউকে উদ্দেশ্য করে মামলা দায়ের করা হয়নি।”
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মামলার তদন্তে সব বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না।”


